এই মহাবিশ্বে যে আমাদের অজানা কত কিছু আছে আমরা তাও জানিনা। মহান আল্লাহ্‌ যে আমাদের কত কিছু দিয়ে সৃষ্টি করেছেন তা ভাবলে অবাক লাগে। চলুন আজ একটু জানার চেষ্টা করি মানব সৃষ্টির রহস্য সম্পর্কে।
 চলুন জানি মানব সৃষ্টির রহস্য সম্পর্কে............!!!! | Techtunes
মহাবিশ্বের একটি বস্তু মলিকিউল বা পার্টিকেল হচ্ছে ডিএনএ। আমরা প্রায়ই সংবাদপত্রে ডিএনএ নিয়ে নানা সংবাদ শিরোনাম দেখি। কিন্তু খুব বেশি মানুষই ডিএনএ কী তা জানার জন্য মাথা ঘামাই না। অথচ মাথা থেকে পা পর্যন্ত আমাদের শরীরের সর্বত্র রয়েছে ডিএনএ’র সদর্প কারসাজি।
 চলুন জানি মানব সৃষ্টির রহস্য সম্পর্কে............!!!! | Techtunes
কখনো কি নিজেকে প্রশ্ন করে দেখেছি কী করে আমরা পেলাম আমাদের নাক, চোখ, কান, আঙুল ও অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ? কিভাবে ডিএনএ এসব এনে দিলো? এ প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে আমাদের আগে জানা দরকার ডিএনএ সম্পর্কে কিছু সরল তথ্য।
 চলুন জানি মানব সৃষ্টির রহস্য সম্পর্কে............!!!! | Techtunes
ডিএনএ হচ্ছে জেনেটিক কোডের সংক্ষিপ্ত নাম।এটি রাসায়নিক তথ্যের অনুবর্তী ফিতার মতো বস্তু। আমাদের দেহকোষ বা সেলের নিউক্লিয়াসে এর অবস্খান। নিউক্লিক অ্যাসিড নামে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অণু বা মলিকিউল দিয়ে ডিএনএ তৈরি। আমাদের ডিএনএ’র এসব ক্ষুদ্রতর অণু একটি সুনির্দিষ্ট ধারাক্রমে সাজানো থাকে, ঠিক যেমনটি সাজানো থাকে একটি বাক্যে একের পর এক অক্ষর।
 চলুন জানি মানব সৃষ্টির রহস্য সম্পর্কে............!!!! | Techtunes
নিউক্লিক অ্যাসিডগুলোর এই অনুবর্তী রজ্জু বা ফিতা আমাদের দেহকোষগুলোকে বলে দেয় কিভাবে তৈরি হবে আমাদের নাক, চোখ, হাত, পা ইত্যাদি সব কিছু।
 চলুন জানি মানব সৃষ্টির রহস্য সম্পর্কে............!!!! | Techtunes
আমাদের ডিএনএ’তে যদি এই অনুবর্তী ফিতা না থাকত, তবে এসব কিছুই হতো না। বিজ্ঞান বা রসায়নশাস্ত্রে এমন কোনো নিয়ম নেই যে নিউক্লিক অ্যাসিড কোনো সুনির্দিষ্ট অনুবর্তী বা সিকোয়েন্স মেনে পাশাপাশি থাকবে। যেকোনো একধরনের নিউক্লিক অ্যাসিড অন্য আরেক ধরনের নিউক্লিক অ্যাসিডের সাথে বìধন গড়ে তুলতে পারে।
 চলুন জানি মানব সৃষ্টির রহস্য সম্পর্কে............!!!! | Techtunes
ডিএনএ’তে কোনো অনুবর্তিতায় নিওনিউক্লিক অ্যাসিডগুলোর অবস্খান করার একমাত্র পূর্ববর্তী নিউক্লিক অ্যাসিড এমনটি করতে নির্দেশ দিয়েছে।
 চলুন জানি মানব সৃষ্টির রহস্য সম্পর্কে............!!!! | Techtunes
যখন আমাদের শরীরে নতুন কোষের জন্ম হয়, পুরনো কোষের ডিএনএ নতুন কোষের ডিএনএ গঠন নির্দেশ করে। এমনকি একটি সরলতম প্রাণীতেও ডিএনএ’র নিউক্লিক অ্যাসিডগুলো এলোমেলো অনুক্রমে থাকে। একটি বানরকে কম্পিউটারের কি-বোর্ডে বসিয়ে দিলে যেমন এলোমেলোভাবে কী চেপে অক্ষর বসাবে ঠিক তেমনি।
 চলুন জানি মানব সৃষ্টির রহস্য সম্পর্কে............!!!! | Techtunes
কেউই এমনটি দেখাতে পারেননি যে হঠাৎ করেই ডিএনএ অস্তিত্ব পেয়েছে। ডিএনএ পেতে প্রয়োজন ডিএনএ। অন্য কথায়, আরো ডিএনএ তৈরির জন্য অবশ্য আগে থেকেই ডিএনএ’র উপস্খিতি থাকতে হবে। হ্যাঁ, এ কথা সত্যি, ডিএনএ যে বিশেষ কোনো অণুর জন্ম দেয় তা হঠাৎ করেই জন্ম হতে পারে।
 চলুন জানি মানব সৃষ্টির রহস্য সম্পর্কে............!!!! | Techtunes
কিন্তু কখনোই এটা দেখানো সম্ভব হয়নি এই অণুবিশেষ যে ডিএনএ তৈরি করে তা হঠাৎ করে অস্তিত্ব পায়নি অণুগুলো পাশাপাশি এসে। এই ডিএনএ-ই হচ্ছে জেনেটিক কোড। মানুষ যদি অর্থপূর্ণভাবে জেনেটিক কোডকে কাজে লাগাতে পারত জিন প্রকৌশলের বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে, তখন তারা জেনেটিক কোডের উৎপত্তি সম্পর্কে আমাদের জানাতে পারত।
 চলুন জানি মানব সৃষ্টির রহস্য সম্পর্কে............!!!! | Techtunes

আমাদের শরীরের অন্তর্ভুক্ত বস্তু দিয়েই তৈরি আমাদের নাক, চোখ, কান, মগজ, অন্য সব টিস্যু, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও কাঠামো। আমাদের শরীরে প্রতিনিয়ত পুরনো কোষ মরে নতুন কোষ জন্ম নিচ্ছে। নতুন কোষ জন্ম দিতে শরীরে যে বস্তু আমরা ব্যবহার করি তা আসে আমাদের খাবার থেকে। খাবার শক্তি বা এনার্জি উৎপাদন করে না। শরীরে নতুন কোষ তৈরিতে খাবার হচ্ছে মূল শক্তি। একটি কোষ একই আকারের বেশ কিছু নতুন কোষ তৈরি করে। আর তা করার একমাত্র উপায় হচ্ছে, খাবার থেকে পাওয়া উপাদান কাজে লাগিয়ে তা করা।
 চলুন জানি মানব সৃষ্টির রহস্য সম্পর্কে............!!!! | Techtunes
আমরা যখন মায়ের পেটে বেড়ে উঠতে শুরু করি, তার শুরু এক আউন্সেরও কম ওজনের একটি কোষ থেকে। পরে ক্রমান্বয়ে গঠিত হয় আমাদের বাহু, হাত, পা, পায়ের পাতা, মগজ, গুর্দা, ফুসফুস, যকৃৎ, পাকস্খলী­ যতক্ষণ না আমরা পরিপূর্ণ দেহরূপ পাই। একটি একক কোষ থেকে বেড়ে বহু কোষ সৃষ্টির মধ্য দিয়ে এ কাজ সম্পন্ন হয়।
 চলুন জানি মানব সৃষ্টির রহস্য সম্পর্কে............!!!! | Techtunes
কিন্তু একটি কোষ থেকে কোটি কোটি কোষ তৈরির মালমসলা আসে কোথেকে, যেখানে নতুন কোষের আকার শুরুর কোষটির মতোই। শুরুতে যেখানে দেহের ওজন ছিল এক আউন্সেরও কম, সেখানে পূর্ণদেহী মানুষ হয় এর চেয়ে বহু গুণ বেশি ওজনের। নতুন কোষের মালমসলা আসে গর্ভবতী মা যা খান তা থেকে।
 চলুন জানি মানব সৃষ্টির রহস্য সম্পর্কে............!!!! | Techtunes

খাবার হজম হওয়ার পর তা ভেঙে জন্ম নেয় মৌলিক কিছু অ্যামাইনো অ্যাসিড। বিভিন্ন অ্যামাইনো অ্যাসিড তখন নতুন করে একটি অনুক্রমে পাশাপাশি বসে তৈরি করে বিভিন্ন টিস্যু [ঝিল্লি] বা অর্গান [ইন্দ্রিয় অঙ্গ]। এই অ্যামাইনো অ্যাসিডের অনুক্রম কী হবে তা নির্ধারণ করে ডিএনএ’র অনুক্রমের মাধ্যমে।
 চলুন জানি মানব সৃষ্টির রহস্য সম্পর্কে............!!!! | Techtunes
আমাদের সব ইন্দ্রিয় অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পুরোপুরি গঠিত হওয়ার পরও দেহকোষ মরে যায়। এই মৃত দেহকোষ প্রতিস্খাপিত হয় নতুন জন্ম নেয়া কোষ দিয়ে। আর খাবারই অনুঘটকের কাজ করে এই নতুন কোষ গঠনে। অতএব আপনি যখন আপনার কুকুরকে একটি মাংস খাওয়ান, আপনার কুকুরের ডিএনএ এটুকু নিশ্চিত করে যে, এই মাছের অথবা গোশতের ফালিকে হজম করে তা ভেঙে কুকুরের বিভিন্ন দেহাংশ গঠনে সাহায্য করে। কিন্তু যখন আপনি নিজে একই স্টিক খান, তখন আপনার ডিএনএ তা হজম করে মানবদেহের পুনর্গঠন নিশ্চিত করে।
 চলুন জানি মানব সৃষ্টির রহস্য সম্পর্কে............!!!! | Techtunes

একটি মুরগির ডিমের ডিএনএ’তে অণুর অনুক্রম মুরগির ডিমের খাদ্যবস্তুকে পরিণত করে গাঢ় ছোট্ট ছোট্ট গুটিতে। এক ব্যক্তি থেকে আরেক ব্যক্তির ডিএনএ’র অনুক্রম ভিন্ন। এক প্রজাতির থেকে আরেক প্রজাতির ডিএনএ-ও ভিন্ন। বিষয়টি বোঝার জন্য একটি লাইব্রেরির কথা ভাবুন, যে লাইব্রেরিতে সব বই-ই একই ভাষার।
 চলুন জানি মানব সৃষ্টির রহস্য সম্পর্কে............!!!! | Techtunes
কিন্তু বিভিন্ন বই বিভিন্ন বিষয়ের ওপর। সব বইয়ে আছে একই বর্ণমালা। কিন্তু অক্ষরগুলো সাজানো বিভিন্ন অনুক্রমে বিভিন্ন বইয়ে। এই অনুক্রমই একটি বইকে করেছে অন্যটি থেকে আলাদা। সে জন্য একটা উপন্যাসকে আমরা আলাদা করতে পারছি একটি বিজ্ঞানের বই থেকে।
 চলুন জানি মানব সৃষ্টির রহস্য সম্পর্কে............!!!! | Techtunes

তা সত্ত্বেও জীববিজ্ঞানের একটা মজার বিষয় হচ্ছে, প্রজনন কোষগুলো বাদে আমাদের দেহের সব কোষে রয়েছে গোটা দেহে পূর্ণ তথ্য। তার পরও আপনার কোষের সব ডিএনএ’র সব তথ্য প্রকাশ কিংবা সঞ্চালিত হতে দেয় না। উদাহরণ টেনে উল্লেখ করা যায়, আপনার চুলের একটি কোষে রয়েছে আপনার চোখের, মগজের, গুর্দার, চামড়ার ও অন্যান্য ইন্দ্রিয় অঙ্গের পূর্ণ জেনেটিক ইনফরমেশন। তা সত্ত্বেও চুলের কোষে শুধু চুলের জেনেটিক তথ্য প্রকাশ করতে দেয়া হয়। বাকি তথ্যগুলোর প্রকাশ ও সঞ্চালন বìধ রাখা হয়। অবশ্য এটি আমাদের জন্য ভালো যে, আমাদের শরীরের কোষগুলোকে সেভাবেই তৈরি করা হয়েছে। তা না হলে আমাদের দেহে সৃষ্টি হতো জৈবিক দ্বন্দ্ব বা বায়োলজিক্যাল ক্যাওস। আমাদের দেহকোষের অনেক কিছুই এখনো অনুদঘাটিত রয়ে গেছে। আধুনিক বিজ্ঞান এখনো তত দূর পৌঁছতে পারেনি।
কিন্তু আমরা আমাদের কোষ সম্পর্কে যতই বেশি জানছি, ততই এর কাজ ও সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে অবাক হচ্ছি। বুঝতে পারছি, ডিএনএ কী বিস্ময়কর এক সৃষ্টি! যখন বিজ্ঞানীরা জিন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান, তখন তারা ডিএনএ অণুর বিভিন্ন অংশ নিয়েই পরীক্ষা করেন।
 চলুন জানি মানব সৃষ্টির রহস্য সম্পর্কে............!!!! | Techtunes
‘হিউম্যান জেনোম প্রজেক্ট’-এর লক্ষ্য ডিএনএ’র কোথায় বিভিন্ন জিন অবস্খান করে। একমাত্র এ উপায়েই আমরা জেনিটিক সমস্যা সমাধানের বিষয়টি বুঝতে শুরু করতে পারি। ত্রুটিপূর্ণ জিন আসে মিউটেশনের মাধ্যমে। মিউটেশন হচ্ছে জেনেটিক কোডের অনুক্রমের দুর্ঘটনাজনিত পরিবর্তন। বিকিরণ কিংবা অন্যান্য পারিবেশিক শক্তির কারণে এ ধরনের পরিবর্তন ঘটে।


যেহেতু এগুলো জেনেটিক কোডের দুর্ঘটনা, সে জন্য প্রায় সব মিউটেশনই ক্ষতিকর। এমনকি যদি একটি ভালো মিউটেশনও ঘটে, তবে প্রতিটি ভালো মিউটেশনের জের ফলে থাকবে শত শত ক্ষতিকর প্রভাব­ কোনো প্রজাতির জন্য তা ভয়াবহ ক্ষতিকর না হলেও। প্রকৃতিবাদীরা মনে করেন, দীর্ঘ সময় ধরে পর্যাপ্ত মিউটেশনের মধ্যে নতুন প্রজাতির নতুন জিন সৃষ্টি হবে এবং প্রাকৃতিক নির্ধারণের মাধ্যমে আবারো নতুন ধরনের প্রাণের সৃষ্টি হবে
 চলুন জানি মানব সৃষ্টির রহস্য সম্পর্কে............!!!! | Techtunes

এমন কোনো প্রমাণ নেই যে, জেনেটিক কোডের দুর্ঘটনাজনিত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে তেমনটি ঘটবে। যেমনটি সম্ভাবনা নেই একটি উপন্যাস ভুল ছাপার কারণে অক্ষর এলোমেলো হয়ে তা রূপ নেবে বিজ্ঞানের বইয়ে। নিদেনপক্ষে এমনটি হতে বিদ্যমান জাতের প্রাণীর বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভব ঘটতে পারে। কিন্তু পুরোপুরি নতুন প্রাণী জন্ম নেবে, তা নয়। যেমন মানুষের চুলের জিন পরিবর্তন হয়ে মানুষের অন্য ধরনের চুলের জন্ম হতে পারে। তবে সম্ভাবনা এমন নেই যে এই চুলের জিন পরিবর্তন হয়ে তা রূপ নেবে পালক কিংবা অন্য কিছুতে।
 চলুন জানি মানব সৃষ্টির রহস্য সম্পর্কে............!!!! | Techtunes চলুন জানি মানব সৃষ্টির রহস্য সম্পর্কে............!!!! | Techtunes


প্রায় সব ধরনের জৈবিক ভিন্নতার পেছনে রয়েছে ইতোমধ্যে বিদ্যমান জিনের নতুন নতুন বিন্যাস, মিউটেশন নয়। মিউটেশনকে আমরা বরাবরই দেখে আসছি ক্ষতিকর বলে। খুব কম মিউটেশনই আছে যেগুলো ক্ষতিকর নয়। এগুলো জেনেটিক জটিলতা বাড়ায় না।
ধন্যবাদ সবাইকে……

0 comments Blogger 0 Facebook

Post a Comment

 
allsoft2.blogspot.com © 2014. All Rights Reserved. Powered by Blogger
Top